জোড়া কলা খেলে কি যমজ বাচ্চা হয়?
জোড়া কলা খেলে কি যমজ বাচ্চা হয়?

লেখক: মনিফ শাহ চৌধুরী

লেখাটি ব্যাঙাচি - অক্টোবর ২০২০ (গুজব) -এ প্রকাশিত হয়েছে


বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে এমন অনেকেই আছেন যাঁরা ওপরের কথাটা শুনেছেন। এটা একটা প্রচলিত মিথ। হয়তো ছোটোবেলায় আপনাকে বুঝ দেওওয়ার জন্য নানী অথবা দাদী বলেছিলেন এবং সেটা আপনার মাথায় এখনও আছে।

কলা খাওয়ার সাথে যমজ বাচ্চা হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। শৈশবে পাওয়া চাকচিক্যময় তথ্যের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে চলুন। এবার জেনে নিই যমজ কীভাবে হয়।

যমজ সাধারণত দুই প্রকার:
১. Identical 
২. Non-identical

১.
সাধারণত Identical twins একই জাইগোট (zygote) থেকে জন্ম নেয়।

জাইগোট কী?

একটি পুরুষ থেকে একটি শুক্রাণু তার নিউক্লিয়াসে থাকা জেনেটিক ম্যাটেরিয়াল বা ডিএনএ একটি স্ত্রীর ডিম্বাণুর নিউক্লিয়াসের সাথে নিষিক্ত করিয়ে দেয়। দুটি কোষ এক হয়ে তৈরি করে একটি একক কোষ, যাকে আমরা জাইগোট বলি।

এই জাইগোট বহুবার বিভাজিত হয়ে একটা ক্লাস্টার বা বলের মতো আকার তৈরি করে, যা আসলে অনেকগুলো কোষের সমষ্টি। একটা নির্দিষ্ট স্টেজে এটাকে ''Embryo'' বলে। এরপর ফিটাস, সবশেষে বাচ্চার জন্ম।

যাহোক, এই যে জাইগোটের বহুবার বিভাজনের কথা বললাম, এমন হতেই পারে কোনো একটা কোষ মূল বল আকৃতির সাথে না থেকে কোনোভাবে আলাদা হয়ে গেল। এরপর জরায়ুর অন্য স্থানে গিয়ে সেটে বসে গেল৷ নিজের মতো বিভাজিত হতে লাগল। তাহলে, কয়েক মাস পর আমরা কী পাব?

দুইটা ফিটাস। অর্থাৎ, দুইটা বাচ্চা। যেহেতু এরা একই embryo থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছে, তাই এরা আইডেন্টিক্যাল। কারণ এদের মূল জাইগোট একটাই। অর্থাৎ, কোনো জেনেটিক ভ্যারিয়েশন নেই। এভাবে আমরা পেয়েও গেলাম হুবুহু এক দেখতে এক জোড়া সন্তান।

২.
যমজ অন্যভাবেও হতে পারে। যেমন: সাধারণত একজন নারী প্রতি মাসে মাত্র একটা Ovum বা ডিম্বাণু Ovary বা ডিম্বাশয় থেকে তার ডিম্বনালী (Oviduct) -এ আনতে পারে৷ কিন্তু, কখনো কখনো কোনো মাসে দুইটা oviduct -এ দুটো আলাদা ovum-এ উপস্থিত থাকতে পারে। যেহেতু এরা আলাদা কোষ তাই এদের নিজেদের মাঝেও জেনেটিক ভ্যারিয়েশন রয়েছে। আবার, এই দুটোর কাছে দুটো আলাদা স্পার্মও পৌঁছাতে পারে৷ দুটো স্পার্মের মাঝেও আবার জেনেটিক ভ্যারিয়েশন রয়েছে!

এভাবে দুটো আলাদা Oviduct-এ আলাদাভাবে নিষিক্তকরণে পরবর্তী দুটো জাইগোট তৈরি করবে এবং এরা জরায়ুতে এসে দুটো আলাদা ফিটাসে পরিণত হবে। যেহেতু, তারা আলাদা জাইগোট থেকে এসেছে তাই তাদের মাঝে অনেক পার্থক্য থাকবে। তারা হবে Non-identical twins.

আশা করি, এরপর থেকে জোড়া কলা খাওয়া এড়াবেন না। কলা অনেক পুষ্টিকর খাবার। বেচারার নামে এত অপবাদ ছড়ানো ঠিক নয়।

তথ্যসুত্র: 

লেখক: মনিফ শাহ চৌধুরী
ব্যাঙের ছাতার বিজ্ঞান

post written by:

২টি মন্তব্য: