মাসের বিজ্ঞাপন

 


এয়ার পকেটে যখন জীবন টেকে

এয়ার পকেটে যখন জীবন টেকে


লেখাটি ব্যাঙাচি - অক্টোবর ২০২০ (গুজব) -এ প্রকাশিত হয়েছে


ডুবে যাওয়া জাহাজে বা লঞ্চে, এমনকি গাড়িতেও বাতাস আটকে থাকে। এটাকে এয়ার পকেট বলে। এটা নতুন না। বাংলাদেশেও এই ঘটনা আগে ঘটেছে। যথেষ্ট পরিমাণে বাতাস থাকা, সেখানে এক বা একাধিক মানুষ থাকা, সময়মতো উদ্ধার হওয়া, এগুলোর সম্ভাবনা অতি অতি কম, কিন্তু শূন্য না।


উলটে যাওয়া জাহাজে বাতাসের বাবলে মানুষ থাকা নিয়ে একটা সিনেমাও হয়েছে, নাম: পোসাইডন অ্যাডভেঞ্চার (১৯৭২)। আমার সমবয়সীরা বিটিভিতে সেই সিনেমাও দেখেছেন। সেবা প্রকাশনী মনে হয় বইটার বাংলাও প্রকাশ করেছিল। সিনেমাটার ট্যাগ লাইন ছিল - NMOᗡ ƎᗡISԀ∩ '˥˥ƎH


তারপর ২০০৬ সালে এটার রিমেক হয়েছে আবার। 


সুতরাং বেশ কয়েকমাস আগে লঞ্চ ডুবিতে বাংলাদেশে একজন মানুষের এভাবে বেঁচে যাওয়ায় বিজ্ঞানের সাথে কোনো সংঘাত নেই।


কিন্তু সময় আর এয়ার পকেটের আকারের মধ্যে সম্পর্কটা কীরকম?

একজন মানুষ দিনে ৫৫০ লিটারের মতো অক্সিজেন নেয়।


বাতাসের এক পঞ্চমাংশ অক্সিজেন। সুতরাং, মোট বাতাস লাগবে ২,৭৫০ লিটার বা ২,৭৫০,০০০ ঘন সেন্টিমিটার। তিন দিনে লাগবে ৮,২৫০,০০০ ঘন সেন্টিমিটার। সেটার ঘনমূল নিলে আসে ২০২  সে.মি.। অর্থাৎ, যদি ২ মিটার প্রতি বাহুর একটা ঘনক (কিউব) নেওয়া হয়, তাহলে সেখানে তিন দিন বাঁচার মতো বাতাস থাকবে। মানুষ সাধারণের চাইতে কম অক্সিজেনেও বাঁচতে পারে। সুতরাং, আরও ছোটো এয়ার পকেট হলেও এটা সম্ভব। 


নাইজেরিয়ার উপকূলে আড়াই দিন ডুবে থাকা জাহাজ থেকে একজনকে উদ্ধার করা হয়।


(বেঁচে যাওয়া মানুষটার মাথা অসম্ভব ঠান্ডা ছিল। আমি হলে সম্ভবত পাগল হয়ে যেতাম এই অন্ধকার জীবন্ত কবরে বসে বসে)


তথ্যসুত্র:



লেখক: জাভেদ ইকবাল
ব্যাঙের ছাতার বিজ্ঞান

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য